বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সকাল ৮:৪৫ মিনিটের দিকে আন্দোলন শুরু হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির (বিডিইউ) নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ করতে হবে।
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার পরিবারের নামে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বিডিইউ-এর নাম পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়। যেহেতু এটি একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থীরা গণ সাক্ষারের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ নামকরণের প্রস্তাব দেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
১৬ জানুয়ারি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্ট থেকে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ করা হয়েছে। তবে ২৫ জানুয়ারি তারা জানতে পারেন যে নাম পরিবর্তন করে ‘গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ করার চেষ্টা চলছে।
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করার আশ্বাস দেন। ২৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ে মানববন্ধন করেন এবং স্মারকলিপি জমা দেন। তাদেরকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তিন দিনের সময় দিলেও কোনো সমাধান আসেনি। ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ হওয়া উচিত এবং নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নেই।
শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলেও ১২ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপনে ‘গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ নাম ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টা থেকে সারা রাত একাডেমি প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে উপাচার্য এসে শিক্ষার্থীদের জানান, তিনি নাম পরিবর্তনের বিষয়ে অপারগ।
শিক্ষার্থীরা ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেন, যাতে তাদের দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ শাটডাউন করা হবে। ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা পর্যন্ত কোনো ফলাফল না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক উভয় ভবনেই তালা ঝুলিয়ে দেন এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন এবং ইউজিসি ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে ১৬,১৭,১৮,১৯ এবং ২২ তারিখ শান্তিপূর্নভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন৷
বাংলাদেশ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় নাম বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮ থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এলাকাবাসীর জন্য ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে৷ এই মেডিকেল ক্যাম্পে তিন শতাধিক মানুষ চিকিৎসা গ্রহন করে৷
২০ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি নাম বাস্তবায়ন স্টুডেন্ট ফোরাম’ বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। ২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে৷
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের স্মারকলিপির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তারা বাধ্য হয়ে আজ সকাল ৮:৪৫ মিনিটে ২০ ঘন্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেন৷ তারা জানান আগামী ২০ ঘন্টার মধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেলযোগাযোগ বন্ধ করে দিবে৷
এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্ততায় শিক্ষা সচিবের আশানুরুপ আশ্বাসের ফলে বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে দীর্ঘ ৭ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষনা করেন শিক্ষার্থীরা এবং তারা আরোও জানান আগামী ২০ মার্চের মধ্যে তাদের দাবি পূরন করা না হলে তারা পুনরায় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন৷
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, কেন অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রত্যাশিত নাম পেলেও, তাদের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হলো? তারা দ্রুত এই সংকটের সমাধান দাবি করেছেন৷
দৈনিক /খবর /পরশ